ঋণ করে ‘ফ্রি ভিসা’ নিয়ে বিদেশে গেছেন ৭২ শতাংশ কর্মী


 মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশে সবচেয়ে বেশি কর্মী যায় বাংলাদেশ থেকে। তথাকথিত ‘ফ্রি ভিসার’ নামে নির্দিষ্ট চাকরির নিশ্চয়তা ছাড়াই বছরের পর বছর এসব দেশে যাচ্ছেন কর্মীরা। সরকার নির্ধারিত খরচের চেয়ে প্রায় পাঁচ গুণ টাকা নেওয়া হয় তাঁদের থেকে। তারপরও দেশগুলোতে গিয়ে কাজ পাননি ৪৩ শতাংশ কর্মী। গন্তব্যে পৌঁছার পর কাজের অনুমতি পেতে নতুন করে টাকা খরচ করতে হয়েছে তাঁদের।

তৃণমূল অভিবাসীদের সংগঠন অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম (ওকাপ) পরিচালিত এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। ২০২২ সালে কুয়েত, ওমান, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে যাওয়া ১ হাজার ৮৪ জন প্রবাসী কর্মীর পরিবারে গিয়ে জরিপটি চালানো হয়েছে। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত সময়ে দেশের আটটি জেলায় এ জরিপের তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

জরিপের তথ্য বলছে, বিদেশে যাওয়ার আগে মাসে কর্মীর গড় আয় ছিল ৯ হাজার টাকা। তাঁর পরিবারের আয় ছিল ৩৬ হাজার ২৩৮ টাকা। কম আয়ের জন্যই মূলত তাঁরা বাড়তি খরচ করে ফ্রি ভিসার নামে বিদেশে যান। এ জন্য তাঁদের খরচ করতে হয়েছে পরিবারের বার্ষিক আয়ের চেয়ে বেশি। তাঁর মানে সবাইকে ধার-দেনা করতে হয়েছে। ৭২ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা কোনো না কোনোভাবে ঋণ নিয়েছেন। ১১ শতাংশ জমি বন্ধক রেখেছেন, ৬ শতাংশ জমি বিক্রি করেছেন। যাঁরা চাকরি না পেয়ে ফিরে এসেছেন, তাঁরা বন্ধক রেখে যাওয়া জমিও পুনরুদ্ধার করতে পারেননি।

‘প্রবাসী আয় হারানোর ওপর গভীর মূল্যায়ন: সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর বাংলাদেশিদের ফ্রি ভিসা অভিবাসনের প্রভাব’ শিরোনামের গবেষণা জরিপের তথ্য নিয়ে রাজধানীর একটি হোটেলে আজ রোববার আলোচনা করা হয়। এতে বলা হয়, মধ‍্যপ্রাচ‍্যের দেশগুলোতে যেতে সরকার নির্ধারিত গড় খরচ ১ লাখ ১৬ হাজার ২২৪ টাকা। অথচ ফ্রি ভিসার নামে ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৮০২ টাকা খরচ করেছেন কর্মীরা।

Comments